
2026-06-21 | মালদা,পশ্চিমবঙ্গ,শিরোনাম, | Kaliachak Sangbad | Views : 48
মিড-ডে মিলের বদলে ‘পিএম পোষণ’, এবার স্কুলের হাতেই সম্পূর্ণ দায়িত্ব মালদা: রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুসারে এবার রাজ্যের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত সমস্ত বিদ্যালয়ে চালু হল পিএম পোষণ (প্রধানমন্ত্রী পোষণ শক্তি নির্মাণ) প্রকল্প। আগে এই প্রকল্পটি মিড-ডে মিল নামে পরিচিত ছিল। ২০২১ সালে কেন্দ্র সরকার প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন করে ‘পিএম পোষণ’ রাখে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের পুষ্টির মান বৃদ্ধি, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বিনামূল্যে রান্না করা মধ্যাহ্নভোজন প্রদান। রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী মালদা জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ইতিমধ্যেই শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক-অভিভাবিকাদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতিটি স্কুলে পাঁচ সদস্যের একটি পিএম পোষণ কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটিতে থাকবেন দুইজন অভিভাবক, প্রধান শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষিকা, একজন নোডাল শিক্ষক বা শিক্ষিকা এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (Self Help Group) একজন প্রতিনিধি। এই কমিটিই পড়ুয়াদের খাবারের গুণগত মান, প্রতিদিনের মেনু এবং খাবার পরিবেশনের পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করবে। মালদা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দিব্যশ্রী মজুমদার জানান, সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁদের বিদ্যালয়ে ইতিমধ্যেই বৈঠক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতদিন ইংরেজবাজার পৌরসভার মাধ্যমে মিড-ডে মিল পরিচালিত হলেও এখন থেকে সম্পূর্ণ দায়িত্ব স্কুলের হাতে থাকবে। ফলে খাবারের গুণগত মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে। খাবার পরিবেশনের আগে তা পরীক্ষা করা হবে এবং কমিটি প্রতিদিন গোটা বিষয়টির উপর নজর রাখবে। মালদা সিসি গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মৌমিতা প্রামাণিক বলেন, পিএম পোষণের দায়িত্ব সরাসরি স্কুলের হাতে আসায় তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁর কথায়, এবার থেকে নির্ধারিত তালিকার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার যেমন পনির, চিকেনসহ অন্যান্য খাদ্যও দেওয়ার সুযোগ থাকবে। খাবারের মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে স্কুলের কমিটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এদিকে দক্ষিণ মালদা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়ের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে শিক্ষা দপ্তর এবং মিড-ডে মিল প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তাঁর দাবি, আগে পৌরসভার মাধ্যমে এই প্রকল্প পরিচালিত হওয়ায় নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এখন স্কুলের হাতে সরাসরি দায়িত্ব দেওয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং পড়ুয়ারা উন্নতমানের খাবার পাবে। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।
