
2026-09-16 | শিরোনাম,পশ্চিমবঙ্গ, মালদা,অন্য ,Viral ,খবর,দেশ,রাজ্য, | Kaliachak Sangbad | Views : 61
নাজমুস সাহাদাত, মানিকচক: চারদিকে থইথই জল। কোথাও উঠোন ডুবে গিয়েছে, কোথাও ঘরের দরজা পর্যন্ত জল। যোগাযোগের পথ বিচ্ছিন্ন হয়ে বহু পরিবার কার্যত জলবন্দি। বন্যার এমন কঠিন পরিস্থিতিতে যখন খাবার ও পানীয় জলের জন্য সমস্যায় পড়েছেন ভূতনির বহু মানুষ, তখন দূর এলাকা থেকে খাবার নিয়ে ছুটে এলেন একদল তরুণ। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রায় ৫০০ মানুষের হাতে খাবার তুলে দিলেন তাঁরা। সামসি ও ভাদু এলাকা থেকে খাবার নিয়ে ভূতনির বিস্তীর্ণ বন্যাকবলিত এলাকায় পৌঁছে যান রিজওয়ান, মতিউল্লাহ, জোবায়ের আহমাদ, আসফাক হোসেন, আসিফ কারিম, তোফায়েল আহমেদ-সহ কয়েকজন যুবক। বন্যার জলে আটকে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছে খাবার তুলে দেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, মানুষের এই দুর্দিনে পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ। উদ্যোগী যুবকদের কথায়, ‘‘আমরা সামসি এবং ভাদু এলাকা থেকে ভূতনির বন্যাকবলিত এলাকায় খাবার নিয়ে এসেছি। বিপদের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের উদ্দেশ্য।’’ তাঁদের দাবি, এদিন প্রায় ৫০০ মানুষের হাতে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বন্যার জেরে ভূতনির বহু পরিবারের ঘরবাড়ি, চাষের জমি এবং জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্ষা এলেই বন্যার আতঙ্কে দিন কাটাতে হয় বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের। জল বাড়লে খাবার, পানীয় জল, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। তবে ত্রাণ বিতরণ করেই থামতে চান না এই তরুণেরা। তাঁদের দাবি, প্রতিবছর বন্যার সময় ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি ভূতনির বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। নদীভাঙন রোধ, বাঁধের সুরক্ষা, জলনিকাশি ব্যবস্থা এবং বন্যা মোকাবিলায় কার্যকর পরিকাঠামো তৈরির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তরুণদের প্রশ্ন, বছরের পর বছর ধরে বন্যার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে ভূতনির মানুষকে। ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলেও এই এলাকার বন্যা সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে তাঁদের দাবি। বিধানসভা ও লোকসভায় ভূতনির বন্যা ও নদীভাঙনের সমস্যা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের আরও বক্তব্য, মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। খাবার, পানীয় জল, বাসস্থান, চিকিৎসা ও জীবিকার মতো বিষয়গুলি নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এখন জরুরি। বন্যার সময় সাময়িক ত্রাণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। তরুণদের কথায়, ‘‘ভূতনির মানুষও স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে চান। তাঁদেরও স্বপ্ন রয়েছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন রয়েছে। বছরের পর বছর বন্যার জলে সেই স্বপ্ন ভেসে যেতে পারে না।’’ প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও ভূতনির বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, দুর্যোগের সময় ত্রাণের পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তবেই ভূতনির মানুষের দুর্ভোগ কমবে। বন্যার জলে যখন অসহায় বহু পরিবার, তখন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগে মানবিকতার বার্তাই সামনে এসেছে। রিজওয়ান, মতিউল্লাহ, জোবায়ের আহমাদ, আসফাক হোসেন, আসিফ কারিম, তোফায়েল আহমেদ-সহ তরুণদের বক্তব্য, ‘‘দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় কর্তব্য।’’
