
2026-09-14 | মালদা,পশ্চিমবঙ্গ | Kaliachak Sangbad | Views : 7
মালদা: সোমবার মালদার মানিকচক ব্লকের ভূতনি থানার অন্তর্গত তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও এখনও জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাননি প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ। জলবন্দি রয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। কোথাও এখনও ১০ থেকে ১২ ফুট জল, আবার অধিকাংশ গ্রামেই বাড়ির একতলা পর্যন্ত জলমগ্ন। উঁচু জায়গা কিংবা বাড়ির ছাদে কোনওরকমে দিন কাটাচ্ছেন বহু পরিবার। এর মধ্যেই ত্রাণসামগ্রী নিয়ে উঠছে একাধিক অভিযোগ। কিছু গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি তরফে এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র একটি করে ত্রিপল দেওয়া হয়েছে। অনেক এলাকায় পৌঁছাচ্ছে না পর্যাপ্ত শুকনো খাবার কিংবা পঞ্চায়েতের তরফে রান্না করা খিচুড়িও। বিশেষ করে উত্তর চন্ডিপুরের একাধিক গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ত্রিপল পেলেও পঞ্চায়েতের তরফে পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে না। বাড়িতে রান্না করার মতো পরিস্থিতি না থাকায় শুকনো খাবারই এখন তাঁদের একমাত্র ভরসা। ফলে চরম সমস্যার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে বানভাসি পরিবারগুলিকে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসন, কেন্দ্রীয় বাহিনী, স্বাস্থ্য দপ্তর এবং ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা মাঠে নেমেছেন। বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ত্রাণসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় পরিষেবা। তবে দুর্গম কিছু গ্রামে এখনও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ। এদিকে বিধায়ক গৌড় চন্দ্র মণ্ডল নিজে বিভিন্ন বন্যাকবলিত গ্রাম ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। কোথায় ত্রাণসামগ্রী বা পানীয় জল পৌঁছায়নি, সেই বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিচ্ছেন তিনি। বানভাসি মানুষের দাবি, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও তাঁদের দুর্ভোগ এখনও কাটেনি। প্রশাসন দ্রুত প্রতিটি জলমগ্ন গ্রামে খাদ্যসামগ্রী, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দিক—এই আর্জিই জানিয়েছেন তাঁরা।
