
2025-05-03 | মালদা,পশ্চিমবঙ্গ,মাধ্যামিক | Kaliachak Sangbad | Views : 107
নাজমুস সাহাদাত, কালিয়াচক: শুক্রবার মাধ্যমিকের ফলাফল প্রকাশ করলেন মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ। মাধ্যমিকের ফলাফল প্রকাশে মালদহের ৭ জন পড়ুয়া প্রথম দশের মধ্যে স্থান দখল করেছে। যার মধ্যে কালিয়াচকের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টার্গেট পয়েন্ট স্কুল থেকে ইনজাম উল হক ও কালিয়াচক আবাসিক মিশনের আসিফ মেহেবুব রাজ্যে অষ্টম আরও কালিয়াচকের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আমিনা বানু ও উবাই সাদাফ দশম স্থান অধিকার করেছে। কৃতি ছাত্র ইনজাম উল হকের বাবা মাইনুল হক একজন পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তার বাড়ি কালিয়াচক থানার নওদা যদুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে এলাকার অনুপ নগর গ্রামে। ইনজাম উল হক টার্গেট পয়েন্ট স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে মেধা তালিকায় ভর্তি হয়েছিলেন ইনজাম। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন এবং দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে আজকে সে রাজ্যের সেরা। মাধ্যমিকে তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৮ পেয়ে রাজ্যে অষ্টম হয়েছে অন্যদিকে আসিফ মেহেবুবের প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৮ পেয়ে অষ্টম স্থান অধিকার করেছে। তাদের সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত স্কুল কর্তৃপক্ষ ও তাদের পরিবার সহ এলাকাবাসী। কালিয়াচক আবাসিক মিশনের কৃতি ছাত্রদের উভয়েরই ইচ্ছে আগামীতে ডাক্তার হওয়ার। এদিন কালিয়াচকের টার্গেট পয়েন্ট স্কুলের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর শুভেচ্ছা পত্র তুলে দেন মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের জেলা প্রতিনিধিদল।স্কুলের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন টার্গেট পয়েন্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষক উজির হোসেন, স্কুলের অন্যতম কর্ণধার কুরবান সেখ সহ অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকা। কৃতি ছাত্রদের মিস্টিমুখ করিয়ে ও ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। অন্যদিকে মালদহে রতুয়া ব্লকের মাগুরা এলাকার ছাত্র আসিফ মেহেবুবকে নজড় কাড়া ফলাফলের জন্যে কালিয়াচক আবাসিক মিশনের সম্পাদক আমিরুল ইসলাম সহ সকল শিক্ষক শিক্ষিকারা ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধনা ও মিস্টি মুখ করানো হয়। এবং কালিয়াচকের জগদীশপুর গ্রামের আমিনা বানু ৬৮৬ নম্বর পেয়ে দশম এবং সুজাপুরের কৃতি ছাত্র উবাই সাদাফ ৬৮৬ নম্বর পেয়ে দশম স্থান অধিকার করেছে। তার বাবা মা মেয়ের সাফল্যে খুশি। আমিনা জানায়, সে দৈনিক ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছে। যার ফল স্বরূপ প্রত্যেকটি বিষয়ে তার ৯৬-এর ওপর নম্বর এসেছে। ওর ইচ্ছা ইউপিএসসি শেষ করে আইএএস অফিসার হওয়ার। টার্গেট পয়েন্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষক উজির হোসেন জানান, এই বছরে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ৬২ জন ছেলে মেয়ে এবার অ্যাফিলিয়েশন পাওয়ার পর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল। তার মধ্যে এবার আমাদের আশা ছিল মাধ্যমিকে বোর্ডের ভালো র্যাঙ্ক করবে যাইহোক দুর্ভাগ্য বশত একজনই বোর্ডে র্যাঙ্ক করেছে। প্রথম থেকে দশ এর মধ্যে একজন অষ্টম স্থান অধিকার করেছে। ধারাবাহিকভাবে আমাদের ২০১৮ সাল থেকে চলছে কখনো একজন কখনো তিনজন কখনো চারজন। আগামী দিনে এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে আশাকরি। কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছি তবে ভাগ্যে না থাকলে তো কিছু করার নেই তবে ভাগ্যে আমি বিশ্বাসি। কালিয়াচক আবাসিক মিশনের সম্পাদক আমিরুল ইসলামের বক্তব্য, ১১৯ জন পরীক্ষার্থী সবাই পাশ করেছে ৮৫% রেজাল্ট করেছে প্রায় ৮০ জন ৯০% প্লাস পেয়েছে ৩৫ জন। ৯৫% ক্লাস পেয়েছে ৯ জন একজন বোর্ডে রাঙ্ক করেছে বোর্ডে অষ্টম স্থান অধিকার করেছে আমাদের শুরুতেই ২০০৭ সালে মাদ্রাসা বোর্ডে তৃতীয় হয়েছিল এবারের মাধ্যমিক বোর্ডে অষ্টম স্থান করায় আমরা স্বাভাবিকভাবে গর্বিত। বরাবরি আমাদের রেজাল্ট খুব ভালো হয়।
