Sunday 20 September







দিনমজুরের ছেলে মাধ্যমিকে রাজ্যে দ্বিতীয়, কালিয়াচকের সাকিলে গর্বিত মালদহ

2026-05-09 | Viral , মালদা,পশ্চিমবঙ্গ,শিরোনাম,মাধ্যামিক ,, | Kaliachak Sangbad | Views : 370


দিনমজুরের ছেলে মাধ্যমিকে রাজ্যে দ্বিতীয়, কালিয়াচকের সাকিলে গর্বিত মালদহ দারিদ্র্যকে হার মানিয়ে ৭৮০ নম্বর পেয়ে নজির কুশাবাড়ীর কৃতি ছাত্র মোহাম্মদ সাকিল হোসেনের মালদহ জেলার কালিয়াচক যেন আবারও প্রমাণ করল—স্বপ্ন দেখার জন্য ধন-সম্পদের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন শুধু কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় আর ইচ্ছাশক্তি। অভাব-অনটনের সংসার, মাথার উপর দারিদ্র্যের চাপ, তবুও সেই সমস্ত প্রতিকূলতাকে পিছনে ফেলে মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করল কালিয়াচক থানার জামিরঘাটার কুশাবাড়ী গ্রামের কৃতি ছাত্র মোহাম্মদ সাকিল হোসেন। তার প্রাপ্ত নম্বর ৭৮০। এই অসাধারণ সাফল্যে শুধু পরিবার নয়, আনন্দে আত্মহারা গোটা মালদহ জেলা। সাধারণ একটি পরিবারের ছেলে সাকিল। বাবা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন একজন দিনমজুর। প্রতিদিন পরিশ্রম করে যা রোজগার করেন, তা দিয়েই চলে সংসার। কখনও কাজ থাকে, কখনও থাকে না। তবুও সংসারের অভাব যেন ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ইচ্ছেকে থামাতে পারেনি। মা সাবিনা খাতুন গৃহবধূ। সংসারের সমস্ত দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি সবসময় নজর রেখেছেন তিনি। চার ভাইবোনের পরিবার। দুই ভাই ও দুই বোন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, চারজনই অত্যন্ত মেধাবী। পরিবারের আর্থিক অবস্থা দুর্বল হলেও পড়াশোনার ক্ষেত্রে কখনও আপস করেননি তাঁরা। এলাকার মানুষও বলেন, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আলাদা আগ্রহ ছিল সাকিলদের। স্কুলের শিক্ষক থেকে প্রতিবেশী—সকলেই জানতেন এই পরিবারে শিক্ষার প্রতি গভীর ভালোবাসা রয়েছে। সাকিলের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বহু রাত জেগে পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবারের আত্মত্যাগ। গ্রামের একটি সাধারণ বাড়িতে বসেই সে রাজ্যের অন্যতম সেরা ফল করেছে। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও নিজের লক্ষ্য থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরে যায়নি সাকিল। তবে এই পরিবারের সাফল্যের ইতিহাস আজকের নয়। এর আগেও ২০২৩ সালে রাজ্যজুড়ে আলোচনায় এসেছিল এই পরিবার। সাকিলের বড় ভাই মুক্তাদুর রহমান সেই বছর মাদ্রাসা বোর্ডের মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন। সেই সময়ও পরিবারকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমে চর্চা হয়েছিল। আর এবার ছোট ভাই সাকিল রাজ্যে দ্বিতীয় হয়ে যেন সেই গৌরব আরও একধাপ বাড়িয়ে দিল। একই পরিবারের দুই ছেলের এমন সাফল্য এলাকায় কার্যত নজির তৈরি করেছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, “এই পরিবারটা খুব কষ্টের মধ্যে থেকেও ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করিয়েছে। ওদের সাফল্য আমাদের গ্রামের গর্ব।” সাফল্যের খবর প্রকাশ্যে আসতেই কুশাবাড়ী গ্রামে শুরু হয় আনন্দের পরিবেশ। প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন সাকিলদের বাড়িতে। কেউ মিষ্টি নিয়ে আসেন, কেউ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। ছোট্ট গ্রামের সাধারণ বাড়িটাই যেন মুহূর্তে উৎসবের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আবেগাপ্লুত মা সাবিনা খাতুন বলেন, “আমরা খুব সাধারণ মানুষ। অনেক কষ্ট করে সংসার চালাই। তবুও ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হতে দিইনি। বড় ছেলে ২০২৩ সালে রাজ্যে তৃতীয় হয়েছিল। এবার ছোট ছেলে দ্বিতীয় হয়েছে। আল্লাহর কাছে অনেক শুকরিয়া। সরকার যদি মেধার ভিত্তিতে স্কলারশিপের ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে ওদের ভবিষ্যৎ আরও ভালো হবে।” কথা বলতে গিয়েই বারবার চোখে জল চলে আসে তাঁর। কারণ, এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে অসংখ্য ত্যাগ, না-পাওয়ার গল্প, আর প্রতিদিনের সংগ্রাম। বাবা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনও ছেলের সাফল্যে ভীষণ খুশি। তিনি বলেন, “আমি দিনমজুরের কাজ করি। অনেক সময় ঠিকমতো কাজও পাই না। কিন্তু ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সেই চেষ্টা করেছি। ওরা নিজের চেষ্টায় এত ভালো ফল করেছে। এখন চাই সরকার ওদের পাশে দাঁড়াক।” সাকিল জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সে ডাক্তার হতে চায়। ছোট থেকেই মানুষের সেবা করার স্বপ্ন দেখে সে। আর সেই স্বপ্ন পূরণের জন্যই আরও বেশি পরিশ্রম করতে চায়। তবে উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানিয়েছে পরিবার। স্কুলের শিক্ষকরাও সাকিলের সাফল্যে অত্যন্ত খুশি। এক শিক্ষক বলেন, “সাকিল অত্যন্ত পরিশ্রমী ছাত্র। পড়াশোনার প্রতি ওর আগ্রহ শুরু থেকেই ছিল। ও শুধু নিজের পরিবারের নয়, গোটা জেলার গর্ব।” এলাকাবাসীরাও সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, এমন মেধাবী ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। কারণ অর্থের অভাবে যাতে কোনও স্বপ্ন থেমে না যায়, সেটাই চান সকলে। বর্তমান সময়ে যখন অনেক ছাত্রছাত্রী নানা সুযোগ-সুবিধা পেয়েও পড়াশোনায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলে, সেখানে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে সাকিলের এই সাফল্য সত্যিই অনুপ্রেরণার। তার জীবনকাহিনি প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে কোনও বাধাই বড় নয়। কালিয়াচকের মতো প্রত্যন্ত এলাকার একটি সাধারণ পরিবার আজ গোটা রাজ্যের কাছে উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সাকিল শুধু একটি পরীক্ষায় ভালো ফল করেনি, সে সমাজকে একটি বড় বার্তাও দিয়েছে—অভাব কখনও স্বপ্নকে থামাতে পারে না। আজ কুশাবাড়ী গ্রামের মানুষ গর্ব করে বলছেন, “ও আমাদের গ্রামের ছেলে।” আর সেই গর্বের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক দিনমজুর বাবার ঘাম, এক মায়ের ত্যাগ, আর এক মেধাবী ছাত্রের নিরলস পরিশ্রমের গল্প। মোহাম্মদ সাকিল হোসেনের এই সাফল্য আগামী দিনের অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। দারিদ্র্যের অন্ধকার ভেদ করে শিক্ষার আলোয় যে জীবন বদলে যেতে পারে, সাকিল তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।



ভুতনিতে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ উন্নতির পথে, তিনটি পঞ্চায়েতের বহু এলাকায় এখন জলবন্তী দশা থেকে মুক্ত।

মালদা: ভুতনিতে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ উন্নতির পথে, তিনটি পঞ্চায়েতের বহু এলাকায় এখন জলবন্তী দশা থেকে মুক্ত। বিগত ২৪ ঘন্টায় প্রায় দুই ফুট জল কমেছে এলাকায় যার ফলে অনেক রাস্তাঘাটে মোটরবাইকে যাতায়াত করতে পারছেন স্থানীয়রা। এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রবিবার ভূতনি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় উপস্থিত হন মানিকচকের বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মন্ডল। এখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে রেখে কথা বলে স্থানীয়দের সঙ্গে, এখন অনেক এলাকায় জল নেমে যাওয়ায় নৌকার পরিমাণ কমানো হতে পারে। যে সমস্ত রাস্তাঘাট বন্যার জলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলি দ্রুত সংস্কার করার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি যতক্ষণ স্বাভাবিক ছন্দেহ ফিরছে না ভুতনি ততক্ষণ পর্যন্ত বিনামূল্যে বাস পরিষেবা চলবে ভূতনি ব্রিজ থেকে। অন্যদিকে ভুতনির প্রায় ৭৬৩ জন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে নিয়ে আসা হয়েছে মথুরাপুরের দুইটি বিদ্যালয়। সেখানে তাদের থাকা এবং খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা জন্য নতুন পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে মানিকচক কলেজকে ঠিক করেছে প্রশাসন। এই ত্রাণ কেন্দ্র থেকে থেকেই পরীক্ষা দেবেন তারা। তার সমস্ত রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যেই বিদ্যুৎ পরিষেবা ও স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন গৌড়চন্দ্র মন্ডল।

বেহাল রাস্তা, জমা জল, নেই পর্যাপ্ত আলো দীর্ঘদিন ধরে এমনই দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটছে মালদার চাঁচল-২ ব্লকের গৌরহন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের সুতী জুড়ান বাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের।

মালদা: বেহাল রাস্তা, জমা জল, নেই পর্যাপ্ত আলো দীর্ঘদিন ধরে এমনই দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটছে মালদার চাঁচল-২ ব্লকের গৌরহন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের সুতী জুড়ান বাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের। এবার ক্ষোভে রাস্তার জমা জলে নেমেই বিক্ষোভ দেখালেন তাঁরা। স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সির বিরুদ্ধে ‘রং দেখে উন্নয়ন’-এর অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বিজেপিকে ভোট দেওয়ার ‘অপরাধে’ ১৫ বছর ধরে একঘরে মালদার চাঁচল দুই ব্লকের অন্তর্গত গৌরহন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে সুতি জুরানবাড়ি এই গ্রাম। জল, আলো ,রাস্তা উন্নয়নের ছিটেফোঁটাও পৌঁছয়নি এলাকায়। সরকার পরিবর্তনের পর এবার নতুন সরকারের কাছে গ্রামের উন্নয়নের আর্জি, তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে গ্রামের রাস্তায় বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তারা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এলাকা বিজেপি অধ্যুষিত হওয়াতেই উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ভোটের ‘রং’ দেখে উন্নয়ন করছেন এলাকার তৃণমল বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সি। সরকার বদলেছে। তাই এবার নতুন সরকারের কাছে তাঁদের একটাই দাবি দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত পাকা রাস্তা তৈরি করতে হবে। মালদা জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি নির্মল চন্দ্র মন্ডল বলেন, আব্দুর রহিম বক্সির রং দেখে উন্নয়ন করেন। এলাকার মানুষ বিজেপিকে ভোট দেন, সেই কারণে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এলাকায় কোন কাজ করেননি তিনি। তবে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। আমরা কথা দিচ্ছি দ্রুত ওই এলাকার মানুষের যা যা দাবি আছে তা পূরণ করব। যদিও তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী বলেন, রং দেখে উন্নয়নের অভিযোগ মিথ্যে। যারা বলছেন তারা মানুষকে ছোট করছেন।

ইংরেজবাজার পৌরসভার বিদায়ী চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হলো বিওসি মিটিংয়ে।

মালদা, ১৯ সেপ্টেম্বর : ইংরেজবাজার পৌরসভার বিদায়ী চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হলো বিওসি মিটিংয়ে। শনিবার দুপুরে পৌরসভার সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ২৩ জন কাউন্সিলর। তাঁদের উপস্থিতিতেই চেয়ারম্যান পদ থেকে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হয়। একইসঙ্গে পৌরসভার অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান হিসেবে ভাইস চেয়ারম্যান সুমালা আগরওয়ালাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণ দেখিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। এদিনের বিওসি মিটিংয়ে দুই বিজেপি কাউন্সিলরও উপস্থিত ছিলেন।এই বিষয়ে ভাইস চেয়ারম্যান সুমালা আগরওয়ালা জানান, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। শনিবার কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে সেই ইস্তফা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে নতুন চেয়ারম্যানের নাম প্রস্তাব করা হবে।বিজেপি কাউন্সিলর কৃষ্ণা নাথ জানান, নতুন চেয়ারম্যান নিয়ে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, তাঁরা সেই সিদ্ধান্ত মেনেই কাজ করবেন।

ভূতনির বানভাসিদের ত্রাণ শিবির পরিদর্শনে মন্ত্রী-সাংসদ ও আধিকারিকরা

মালদা: ভয়াবহ বন্যায় ঘরবাড়ি ছেড়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া ভূতনির বানভাসি মানুষের সঙ্গে দেখা করে তাদের সমস্যার কথা শুনলেন রাজ্যের মন্ত্রী, সাংসদ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা। শনিবার মানিকচকের মথুরাপুর মডেল হাইস্কুলে গড়ে ওঠা রাজ্য সরকারের ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করেন মন্ত্রী শংকর ঘোষের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল। রাজ্য সরকারের নির্দেশে মালদার রতুয়া ও ভূতনির বন্যা ও ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে প্রতিনিধি দলটি জেলায় এসেছে। শনিবার সকাল থেকে রতুয়ার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের পর মথুরাপুরে এসে ত্রাণ শিবিরের পরিকাঠামো ও পরিষেবা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন তাঁরা। এই ত্রাণ শিবিরে ভূতনির বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা থেকে বাড়িঘর ছেড়ে কয়েকশো মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের থাকা, খাওয়া-দাওয়া সহ প্রয়োজনীয় পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীরা আশ্রয় নেওয়া দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁরা সঠিকভাবে খাবার, পানীয় জল, চিকিৎসা ও অন্যান্য পরিষেবা পাচ্ছেন কিনা, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি বন্যাদুর্গত মানুষের হাতে রাজ্য সরকারের তরফে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ও ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। দুর্গতদের সমস্যাগুলি শুনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

পুজোর মুখে মানবিক উদ্যোগ নিলেন ইংরেজবাজার বিধানসভার বিধায়ক তথা মুখ্য সচেতক অম্লান ভাদুড়ি।

মালদা: পুজোর মুখে মানবিক উদ্যোগ নিলেন ইংরেজবাজার বিধানসভার বিধায়ক তথা মুখ্য সচেতক অম্লান ভাদুড়ি। ফুটপাথ থেকে উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের পুজো পর্যন্ত ব্যবসা করার জন্য অনুমতি দেয়।সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য মালদা শহরের ফোয়াড়া মোড়-সহ সংলগ্ন এলাকার ফুটপাথ থেকে একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ করা হয়। এর ফলে পুজোর মুখে সমস্যায় পড়েন বহু ফুটপাথ ব্যবসায়ী। শনিবার তাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে ব্যবসায়ীদের নিয়ে ফোয়াড়া মোড় ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি।পরিদর্শনের সময় ফুটপাথ ব্যবসায়ীরা কোথায় এবং কীভাবে তাদের ব্যবসা করতে পারবেন, সেই বিষয়ে নিয়ে বিধায়ক আলোচনা করেন। সাধারণ মানুষের চলাচলে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও যাতে পুজোর মরশুমে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই জায়গা নির্ধারণের কথা জানান।বিধায়কের এই উদ্যোগে খুশি ফুটপাথ ব্যবসায়ীরা। তারা অম্লান ভাদুড়ির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার নামে জয়ধ্বনি দেন।এই বিষয়ে ইংরেজবাজারের বিজেপি বিধায়ক তথা মুখ্য সচেতক অম্লান ভাদুড়ি জানান সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য প্রশাসন ফুটপাথ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করেছে। এতে পুজোর মুখে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের আবেদনে সাড়া দিয়ে পুজো পর্যন্ত ফুটপাথের একাংশে ব্যবসা করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। পুজোর পর ফুটপাথ ব্যবসায়ীদের অন্যত্র পুনর্বাসনের জন্য বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে মালদার মানিকচকের ভুতনি ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আজ সকালে মালদা সার্কিট হাউস থেকে রওনা দিলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ সহ এক প্রতিনিধি দল।

মালদা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে মালদার মানিকচকের ভুতনি ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আজ সকালে মালদা সার্কিট হাউস থেকে রওনা দিলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ সহ এক প্রতিনিধি দল। সাম্প্রতিক বন্যায় ভুতনির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় লক্ষাধিক মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়েছেন। যদিও বর্তমানে ভুতনির কিছু অংশে জল সামান্য কমতে শুরু করেছে, তাও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। বানভাসি মানুষদের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে এবং ত্রাণ বণ্টন প্রক্রিয়া সচল রয়েছে কিনা তা যাচাই করতেই মন্ত্রীদের এই সফর। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে যাতে কোনও ঘাটতি না থাকে, সেই বিষয়ে মন্ত্রীদের দল সরাসরি স্থানীয় দুর্গত মানুষদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং তাঁদের অভাব-অভিযোগ শুনবেন। উল্লেখ্য, ভুতনির এই বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের পাঠিয়ে আকাশপথে পরিস্থিতি পরিদর্শন করিয়েছেন এবং দুর্গতদের সহায়তার জন্য ত্রাণ তহবিলে আরও ৫ কোটি টাকা আর্থিক বরাদ্দ করেছেন।

ভূতনির বন্যার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ভূতনির সেতু এলাকায় পরিদর্শনে জেলা শাসক সহ জেলা প্রশাসনের কর্তারা।

ভূতনির বন্যার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ভূতনির সেতু এলাকায় পরিদর্শনে জেলা শাসক সহ জেলা প্রশাসনের কর্তারা। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি সমস্ত পরিকাঠামো খতিয়ে দেখলেন জেলাশাসক পুলিশ সুপার সহ বিধায়ক ও অন্যান্য আধিকারিকরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ স্বাস্থ্যপরিসেবা নৌকা ব্যবস্থা পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন বিষয়ে খতিয়ে দেখেন সরজমিনে জেলা শাসক। কথা বললেন সমস্ত দপ্তরের আধিকারিকদের সাথে। পাশাপাশি সাংবাদিক সম্মেলন করে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে ভুতনি বানভাসী মানুষের জন্য কি কি ব্যবস্থা করেছে সরকার তার খতিয়ান তুলে ধরেন। দ্রুত ভুতনির বেশ কিছু গ্রামে বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরায় চালু করা হবে বলে জানাই জেলা শাসক।

নানান কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন পালন

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নানা জনমুখী প্রকল্পের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭৬তম জন্মবার্ষিকী মন্ডল চার এর উদ্যোগে পালন করা হলো পুরাতন মালদার মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত ভবনে। এদিন সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপন করেন দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পলি দাস, উপপ্রধান চিত্তরঞ্জন সরকার, পুরাতন মালদার পঞ্চায়েত সমিতর বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ অসিত সরকার,জেলা পরিষদ সদস্য জোসনা সরকার -সহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করা হয়। পাশাপাশি তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

ইংরেজ বাজার পৌরসভার পদত্যাগী তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৭তম জন্মদিন পালন করলেন।

মালদা: ইংরেজ বাজার পৌরসভার পদত্যাগী তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৭তম জন্মদিন পালন করলেন। গেরুয়া রঙের কেক গেরুয়া রঙের নরম পানীয় দিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ইংরেজ বাজার পৌরসভার সভাকক্ষে পৌরসভার সমস্ত কাউন্সিলর কর্মচারীদের নিয়ে প্রধান মন্ত্রীর জন্মদিন পালন করা হয়। উল্লেখ্য গত সাতদিন আগে ইংরেজ বাজার পৌরসভা থেকে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী পদত্যাগ করেন। দলবদলের হাওয়াতে মালদহ শহরে গুঞ্জন যে কৃষ্ণেন্দু মনে হয় শাসক দলে ঢুকে পরবেন। কিন্তু বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব সবুজ সংঙ্কেত না দেওয়াতে এখন পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই কৃষ্ণেন্দুর। এর মধ্যেই প্রধান মন্ত্রীর জন্মদিন পালন তাও আবার গেরুয়া কেক গেরুয়া নরম পানীয় আলাদা তাৎপর্যময়। গেরুয়া রঙের কেক নিয়ে প্রশ্ন করাতে কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী বলেন, গেরুয়া বলে কোনো বিষয় না,আমার কাছে সমস্ত রং সমান।

জলের মাঝে মানবিকতার হাত, তরুণদের উদ্যোগে ভূতনিতে ৫০০ মানুষের মুখে খাবার

নাজমুস সাহাদাত, মানিকচক: চারদিকে থইথই জল। কোথাও উঠোন ডুবে গিয়েছে, কোথাও ঘরের দরজা পর্যন্ত জল। যোগাযোগের পথ বিচ্ছিন্ন হয়ে বহু পরিবার কার্যত জলবন্দি। বন্যার এমন কঠিন পরিস্থিতিতে যখন খাবার ও পানীয় জলের জন্য সমস্যায় পড়েছেন ভূতনির বহু মানুষ, তখন দূর এলাকা থেকে খাবার নিয়ে ছুটে এলেন একদল তরুণ। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রায় ৫০০ মানুষের হাতে খাবার তুলে দিলেন তাঁরা। সামসি ও ভাদু এলাকা থেকে খাবার নিয়ে ভূতনির বিস্তীর্ণ বন্যাকবলিত এলাকায় পৌঁছে যান রিজওয়ান, মতিউল্লাহ, জোবায়ের আহমাদ, আসফাক হোসেন, আসিফ কারিম, তোফায়েল আহমেদ-সহ কয়েকজন যুবক। বন্যার জলে আটকে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছে খাবার তুলে দেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, মানুষের এই দুর্দিনে পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ। উদ্যোগী যুবকদের কথায়, ‘‘আমরা সামসি এবং ভাদু এলাকা থেকে ভূতনির বন্যাকবলিত এলাকায় খাবার নিয়ে এসেছি। বিপদের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের উদ্দেশ্য।’’ তাঁদের দাবি, এদিন প্রায় ৫০০ মানুষের হাতে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বন্যার জেরে ভূতনির বহু পরিবারের ঘরবাড়ি, চাষের জমি এবং জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্ষা এলেই বন্যার আতঙ্কে দিন কাটাতে হয় বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের। জল বাড়লে খাবার, পানীয় জল, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। তবে ত্রাণ বিতরণ করেই থামতে চান না এই তরুণেরা। তাঁদের দাবি, প্রতিবছর বন্যার সময় ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি ভূতনির বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। নদীভাঙন রোধ, বাঁধের সুরক্ষা, জলনিকাশি ব্যবস্থা এবং বন্যা মোকাবিলায় কার্যকর পরিকাঠামো তৈরির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তরুণদের প্রশ্ন, বছরের পর বছর ধরে বন্যার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে ভূতনির মানুষকে। ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলেও এই এলাকার বন্যা সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে তাঁদের দাবি। বিধানসভা ও লোকসভায় ভূতনির বন্যা ও নদীভাঙনের সমস্যা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের আরও বক্তব্য, মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। খাবার, পানীয় জল, বাসস্থান, চিকিৎসা ও জীবিকার মতো বিষয়গুলি নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এখন জরুরি। বন্যার সময় সাময়িক ত্রাণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। তরুণদের কথায়, ‘‘ভূতনির মানুষও স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে চান। তাঁদেরও স্বপ্ন রয়েছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন রয়েছে। বছরের পর বছর বন্যার জলে সেই স্বপ্ন ভেসে যেতে পারে না।’’ প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও ভূতনির বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, দুর্যোগের সময় ত্রাণের পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তবেই ভূতনির মানুষের দুর্ভোগ কমবে। বন্যার জলে যখন অসহায় বহু পরিবার, তখন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগে মানবিকতার বার্তাই সামনে এসেছে। রিজওয়ান, মতিউল্লাহ, জোবায়ের আহমাদ, আসফাক হোসেন, আসিফ কারিম, তোফায়েল আহমেদ-সহ তরুণদের বক্তব্য, ‘‘দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় কর্তব্য।’’



Ads







অনুসন্ধান







Follow us on                  

About Us
Kaliachak Sangbad, a pioneering digital platform, is revolutionizing the way citizens access news, information, and services.
Contact Us
Address : Kaliachak, Malda
Call : +91 7001942597
WhatsApp : +91 9749218411
Email : kaliachaksangbad@gmail.com

Total Visitor : 158329