
2026-04-13 | রাজ্য,Viral ,কালিয়াচক, মালদা,পশ্চিমবঙ্গ,শিরোনাম | Kaliachak Sangbad | Views : 47
মোঃ আবুল কাশিম মালদা :- মানবিকতার এক অনন্য নজির গড়লেন মানিকচক বিধানসভার আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী মোঃ তৌহিদুর রহমান। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেখানে অধিকাংশ নেতার প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোট প্রচার, জনসভা এবং রাজনৈতিক কৌশল, সেখানে একজন প্রার্থীর এমন মানবিক উদ্যোগ সত্যিই বিরল এবং প্রশংসনীয়। “রক্তদান মানেই জীবনদান” এই বহুল প্রচলিত কথাটি আজ বাস্তব রূপ পেল মালদা জেলায়। আজকের দিনটি ছিল নির্বাচনী প্রচারের দিক থেকে অত্যন্ত ব্যস্ত একটি দিন। মানিকচক বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালাচ্ছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী মোঃ তৌহিদুর রহমান। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে একের পর এক সভা, জনসংযোগ এবং পথসভায় অংশ নিচ্ছিলেন তিনি। চারিদিকে নির্বাচনের উত্তেজনা, মানুষের ভিড় এবং রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেই হঠাৎ একটি ফোন কল তাঁর দিনের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দেয়। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, একজন গুরুতর অসুস্থ রোগীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন। পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সংকটজনক, এবং সময়মতো রক্ত না পেলে বড় বিপদের আশঙ্কা ছিল। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ব্যস্ততার অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারেন, বিশেষ করে যখন সামনে বড় রাজনৈতিক দায়িত্ব থাকে। কিন্তু মোঃ তৌহিদুর রহমান সেই পথে হাঁটেননি। এক মুহূর্তও দেরি না করে তিনি নিজের চলমান প্রচার কার্যক্রম স্থগিত করেন। উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের অবাক করে দিয়ে তিনি সরাসরি রওনা দেন মালদা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল-এর উদ্দেশ্যে। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিজেই রক্তদান করেন। এই মানবিক উদ্যোগের ফলে বাঁচে এক মূল্যবান জীবন। রোগীর নাম দাসু দেব শর্মা, যিনি কালিয়াগঞ্জ, উত্তর দিনাজপুর-এর বাসিন্দা। তাঁর পরিবার এই কঠিন সময়ে এমন সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁরা ভাবতেই পারেননি যে একজন রাজনৈতিক প্রার্থী এত ব্যস্ততার মাঝেও সবকিছু ছেড়ে ছুটে এসে এভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন। পরিবারের এক সদস্য বলেন, “আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কোথা থেকে রক্ত পাব, কীভাবে ব্যবস্থা করব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। ঠিক সেই সময় মোঃ তৌহিদুর রহমান নিজে এসে রক্ত দিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়ালেন। আমরা তাঁর কাছে চিরকৃতজ্ঞ।” এই ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত অন্যান্য মানুষজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও তাঁর এই উদ্যোগের প্রশংসায় মুখর হয়ে ওঠেন। অনেকেই বলেন, আজকের দিনে যেখানে রাজনীতি প্রায়শই শুধুমাত্র ক্ষমতা এবং প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে, সেখানে এমন মানবিক দৃষ্টান্ত সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের কাজ শুধু একজন নেতার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিই উজ্জ্বল করে না, বরং সাধারণ মানুষের কাছে রাজনীতির প্রতি একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়। মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোই একজন প্রকৃত জননেতার পরিচয়, এবং মোঃ তৌহিদুর রহমান সেই দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন। যখন অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতা ভোট প্রচার নিয়ে ব্যস্ত, তখন এই ঘটনা একটি আলাদা দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দেয়। এটি দেখায় যে রাজনীতি শুধু ভোটের লড়াই নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি মাধ্যমও হতে পারে। মোঃ তৌহিদুর রহমানের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। স্থানীয় মানুষের কথায়, “এমন মানবিক নেতা আজকের দিনে সত্যিই খুব কম দেখা যায়। তিনি শুধু ভোট চাইতে আসেননি, তিনি মানুষের পাশে দাঁড়াতে জানেন।” সব মিলিয়ে, এই ঘটনা শুধু একটি রক্তদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—এটি মানবিকতা, দায়িত্ববোধ এবং প্রকৃত নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।