
2026-04-08 | পশ্চিমবঙ্গ, | Kaliachak Sangbad | Views : 449
সম্প্রতি নলেজ সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বসন্ত উৎসব উপলক্ষে মমতাজ বেগম ফার্মেসি কলেজের শুভ উদ্বোধনে,সম্প্রীতির বার্তা নলেজ সিটির কর্ণধার আব্দুর রব *বাইজিদ মন্ডল দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা:-* বসন্ত চলে গেলেও বসন্তের রেশ যে আজও একেবারে বিলীন হয়ে যায়নি তার অন্যতম নজির দেখা গেল মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভার রাজার হাট নলেজ সিটিতে। প্রকৃতির এই তীব্র দাবদাহকে উপেক্ষা করে বসন্তের রঙিন ছোঁয়ায় এখানকার শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে ছোটো থেকে বড়ো সমগ্র শিক্ষার্থীরাই মেতে উঠেছিল। সকাল থেকেই নাচ,গান,আবৃত্তিতে মত্ত হয়ে উঠেছিল শিক্ষা প্রাঙ্গনে। এই বসন্ত উৎসবের পাশাপাশি এদিন নলেজ সিটির কর্ণধার আবদুর রব এর উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের সুপ্রতিষ্ঠিত করতে এখানে একটি প্যারামেডিকেল কলেজের ভিত্তি প্রতিস্থাপিত হয়। এখানে উপস্থিত ছিলেন, নলেজ সিটির কর্ণধার আব্দুর রব, এ আর ল কলেজের প্রিন্সিপাল ড: বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী,ইয়াকুব আলী বি এড কলেজের প্রিন্সিপাল ড: সুব্রত ঘোষ, এম ই মেমোরিয়াল কলেজের প্রিন্সিপাল প্রিয়াঙ্কা ঘরুই,ডাঃ স্নেহা খাতুন,মমতাজ বেগম,রাজু সামন্ত সহ আরও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্রমুখ। এদিন নলেজ সিটিতে মমতাজ বেগম ফার্মেসি কলেজের শুভ উদ্বোধন হয়। নলেজ সিটির কর্ণধার আব্দুর রব জানান,আজকের দিনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, একদিকে যেমন মমতাজ বেগম ফার্মেসি কলেজের শুভ উদ্বোধন,অন্য দিকে তেমন এই ফার্মেসী কলেজের নতুন ক্লাসের পঠন পাঠন শুরু। এবং অপরদিকে দুটি ইনিস্টিটিউট এর ফাউন্ডেশন ডে, এ আর প্যারামেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটালের লাইব্রেরির ভিত্তিপ্রসথর স্থাপনের দিন। তিনি আরও বলেন,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তি নিকেতনের আদলে তৈরি এই নলেজ সিটি করা হয়েছে। শান্তি নিকেতনে যেমন কোনো বিশেষ ধর্মীয় উৎসব হয়না,তেমনি এই নলেজ সিটিতে কোনো ধর্মীয় উৎসব পালন করা হয় না,সম্প্রীতির বার্তা দিতে। তিনি করুন স্বরে বললেন,দেশ স্বাধীন হয়েছে প্রত্যেক ধর্মের ধর্ম প্রাণ মানুষের জীবনের বিনিময়ে। দেশ স্বাধীন হয়েছে প্রায় ৭৭ বছর অতিবাহিত হলেও কিন্তু এখন এমন একজন মানুষের হাতে দেশ ক্ষমতায় আছে,তারা আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে,জাতি ভেদ ,দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছে অতি কৌশলে। বিশেষ একটা ধর্মকে টার্গেট করে হেনস্তা করে যাচ্ছে। আমরা ভারতে জন্মগ্রহণ করেও এখন আমরা দেশের নাগরিক কি না সেটা প্রমাণ করতে হবে সরকারের কাছে,এমন পরিস্থিতি হচ্ছে,এর থেকে লজ্জা ভারত বাসীর আর হয় না। এই জন্য আমরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অনুসরণ করি এই কারণে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সবার ঊর্ধ্বে। ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংস একটা কথা বলেছিলেন "যত মত তত পথ" কত সহজ সরল ভাষায় এই কথা বলে ছিলেন। এখন যদি আমরা তার আদর্শকে সামনে আনি,তাহলে আমাদের মধ্যে এই বিভেদটা আসেনা। আপনি আপনার ধর্ম পালন করবে,আমি আমার ধর্ম পালন করব, কারোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হবে না, "যত মত তত পথ" সবাই শ্রেষ্ঠ,সবাই ভালো। অর্থাৎ এখন সেই সাধারণ একটি উক্তি আমাদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রযোজ্য। তাই আমরা বিশ্বাস করি সেই রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর শান্তি নিকেতন কে যেভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে,সেই আদর্শ আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়ারা ও সর্ব সাধারণ মানুষমধ্যে ভাবাবেগ গড়ে উঠুক,সম্প্রীতির ভাব গড়ে উঠুক।