
2026-03-31 | Viral , মালদা,পশ্চিমবঙ্গ,রাজনীতি ,, | Kaliachak Sangbad | Views : 2668
মালদার মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে বিতর্ক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় কংগ্রেস প্রার্থী সায়েম চৌধুরী (বাবু) নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, “লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি” নামের একটি অস্পষ্ট ও অযৌক্তিক যুক্তিকে সামনে রেখে সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন সায়েম চৌধুরী ও তাঁর সমর্থকেরা। বিক্ষোভস্থল থেকেই তিনি অভিযোগ করেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মাত্র একটি ক্লিকের মাধ্যমে বহু নাগরিককে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের পদক্ষেপ নাগরিকদের মৌলিক অধিকারকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। তিনি জানান, এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট-এ প্রশ্ন তোলা হলেও এখনও পর্যন্ত স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি, কোন আইনি ধারার ভিত্তিতে “লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি”-র নামে এই ধরনের নোটিশ জারি করা হচ্ছে। তাঁর মতে, আইনি স্বচ্ছতার অভাবই এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে। সায়েম চৌধুরী উদাহরণ দিয়ে বলেন, একই পরিবারের দুই সদস্য একই ধরনের নথি জমা দেওয়ার পরও ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। “আমরা দুই ভাই একই ডকুমেন্ট জমা দিয়েছি, কিন্তু একজনের নাম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় এসেছে, অন্যজনের নাম বাদ পড়েছে। কারণ, আমাদের কেস আলাদা আলাদা বিচারকের কাছে গিয়েছে এবং তারা ভিন্নভাবে নথি মূল্যায়ন করেছেন,”—বলেন তিনি। তাঁর দাবি, মোথাবাড়ির বিভিন্ন এলাকায় এমন বহু ঘটনা সামনে এসেছে, যা পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন কংগ্রেস প্রার্থী। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নাগরিকত্ব নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যদি অভিন্ন নির্দেশনা না থাকে, তাহলে তা নিছক প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে “ডি-ভোটার” হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবন নাজেহাল হয়ে উঠছে। এই ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতে সাদা কাফনের কাপড় পরে আন্দোলনে অংশ নেন সায়েম চৌধুরী ও তাঁর সমর্থকেরা। বিক্ষোভ মঞ্চ থেকেই তিনি নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে দাবি তোলেন—হয় সমস্ত ভোটারের নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত করা হোক, নতুবা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটানো হোক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোথাবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের আশঙ্কা, সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। যদিও প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে বিষয়টির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক আগামী নির্বাচনের আগে একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।