
2024-12-01 | পশ্চিমবঙ্গ | Kaliachak Sangbad | Views : 1019
মনিপুরে ও উত্তরপ্রদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করতে ও প্রতিবেশী বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর অত্যাচার ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবিতে আই এস এফ এর পক্ষে তিনটি স্থানে ডেপুটেশন দেওয়া হয়,ও বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী বাইজিদ মন্ডল কলকাতা :- মনিপুরে দু'বছর ধরে লাগাতার জাতিদাঙ্গা বন্ধ করে শান্তি ফেরানোর দাবিতে, উত্তরপ্রদেশে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর দমন-পীড়ন ও ধর্মীয় অধিকার সুনিশ্চিত করার দাবিতে ও প্রতিবেশী বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু জাতিগোষ্ঠীর ওপর অত্যাচার ও তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবিতে কলকাতায় অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্টের পক্ষ থেকে তিনটি স্থানে ডেপুটেশন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। পাশাপাশি এদিন মনিপুর ভবন ও উত্তর প্রদেশ ভবনে গিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।মনিপুর সরকারের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক জি এস জয়রিতা স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। বিকেলে পার্ক সার্কাসে বাংলাদেশ উপ দূতাবাসের সামনে আইএসএফের কর্মী সমর্থকরা মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। আইএসএফ নেতৃত্ব সেখানেই বসে পড়েন ও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন,পরে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে এসে পোঁছান আইএসএফ চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী। তিনি প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেবার দাবিতে সোচ্চার হন। পাশাপাশি ভারতের পতাকাকে যেভাবে ঐ দেশের কতিপয় মানুষ অবমাননা করছে, তার তীব্র সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন,এটা বরদাস্ত করা যায় না। এই বিষয়ে ঐ দেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি আবেদন জানান। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে মাজার সহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান আক্রান্ত হচ্ছে। এগুলি বন্ধ করতে ঐ দেশের সরকারকে উদ্যোগ করতে হবে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে সাইফুল ইসলাম আলিফ নামে এক আইনজীবী খুনের ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়ে নওসাদ সিদ্দিকী বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে কাউকে যেন ফাঁসানো না হয়। তিনি বলেন, দুইদেশের কিছু রাজনৈতিক কারবারী এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। বিভাজনের রাজনীতির এই চক্রান্তে পা না দেওয়ার জন্য দুইদেশের জনসাধারণের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সংখ্যাগুরুদেরই দিতে হবে বলে তিনি জানান। দুই প্রতিবেশী দেশ মৈত্রী ও সৌহার্দ্যের পরিবেশে এগোতে হবে বলে তিনি মতপ্রকাশ করেন। উত্তরপ্রদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আইএসএফ চেয়ারম্যান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কোন অবস্থাতেই উপসনার স্থল (বিশেষ বিধান) আইন ১৯৯১ লঙ্ঘন করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টকে অবিলম্বে এই আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই ধরণের সমীক্ষা বন্ধে হস্তক্ষেপ করতে হবে। তিনি বলেন, এটা সর্বোচ্চ আদালত ২০১৯ সালে অযোধ্যা রায়ে বহাল রেখেছিল,তার অন্যথা কেন হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দলের স্মারকলিপিতে সম্ভলের ঘটনার উচ্চপর্যায়ের বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি সহ নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেবার দাবি জানানো হয়েছে। এই কর্মসূচীতে উপস্থিত আইএসএফের রাজ্য কমিটির কার্যকারী সভাপতি সামসুর আলি মল্লিক, সম্পাদক বিশ্বজিত মাইতি, অফিস সম্পাদক নাসিরুদ্দিন মীর, রাজ্য কমিটির অন্যতম সদস্য গাজী সাহাবুদ্দিন সিরাজী, তাপস ব্যানার্জি প্রমুখ। কলকাতা সহ আশেপাশের জেলাগুলি থেকেও দলের বহু কর্মী সমর্থক বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেন।
