Friday 22 May







সোমবার সন্ধ্যা অনুমানিক সাড়ে ছটা নাগাদ স্থানীয় কাঠ মিল সংলগ্ন ময়দানে আয়োজন করা হয়েছিল এই অনুষ্ঠানের।

2024-11-12 | মালদা,পশ্চিমবঙ্গ | Kaliachak Sangbad | Views : 218

শেষ আপডেট: 2024-11-12

সোমবার সন্ধ্যা অনুমানিক সাড়ে ছটা নাগাদ স্থানীয় কাঠ মিল সংলগ্ন ময়দানে আয়োজন করা হয়েছিল এই অনুষ্ঠানের। উপস্থিত ছিলেন মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি জয়ন্ত কুন্ডু, সম্পাদক উত্তম বসাক,ডেকোরেটর অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য উপদেষ্টা গোপাল সরকার,নর্থ বেঙ্গল ডেকোরেটর অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধক্ষ্য টিংকু দত্ত, ডেকোরেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রদীপ বাগচী সহ ডেকোরেটর অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যেক সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গ। এদিন সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয় এই মিলন উৎসবে। সংগঠনের সভাপতি জানান এই প্রথম আমাদের মিলন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে, আগামীতে আরও ভালোভাবে এই মিলন উৎসবকে সাফল্যমন্ডিত করা হবে।



গো সংরক্ষণ বিষয়ে শুভেন্দু সরকারকে সার্বিক সমর্থন হিন্দুমহাসভার, মুসলমানদের দেওয়া হলো গোহত্যা থেকে বিরত থাকার বার্তা

গো সংরক্ষণ বিষয়ে শুভেন্দু সরকারকে সার্বিক সমর্থন হিন্দুমহাসভার, মুসলমানদের দেওয়া হলো গোহত্যা থেকে বিরত থাকার বার্তা গোসম্পদ সংরক্ষণ বিষয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তার সরকারের নেওয়া কর্মসূচিকে সার্বিক সমর্থন জানালো ভারতের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যশালী প্রতিষ্ঠান অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা । রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর নেতৃত্বে আজ প্রায় পঁচিশ জন সদস্যের একটি প্রতিনিধি মন্ডল পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে রাজ্যপাল আর.এন.রবি. ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চিফ সেক্রেটারির কাছে ডেপুটেশন জমা দিল । এরপর হিন্দু মহাসভার রাজ্য কমিটির সদস্যরা কলকাতার বিখ্যাত নাখোদা মসজিদে গিয়ে প্রধান ইমাম মাওলানা মহম্মদ সাফিক কাসমির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এই মওলানা সাফিক কাসমি মুসলমান সম্রদায়ের মানুষদের কাছে গোহত্যা বন্ধ করা এবং গোমাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে আবেদন করেছেন । এই প্রসঙ্গে হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর বক্তব্য স্বাধীনতার অনেক আগে থেকেই হিন্দু মহাসভা গোহত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা এবং গোমাতাকে জাতীয় প্রাণী ঘোষণা করার জন্য আন্দোলন করে আসছে । হিন্দু মহাসভার সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনের ফলেই ১৯৫০ সালে গোসংরক্ষণ বিষয়ে সরকারি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে । কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সনাতনী জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে পর্যন্ত যতগুলো সরকার এসেছে তারা প্রকৃত অর্থে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে মুসলিম মৌলবাদকে তোষণ করে এসেছে এবং হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগকে আঘাত করেছে । কিন্তু আজ ভারতের যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির নেতৃত্বে বাংলার জনগণের কর্মনিষ্ঠ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় যেভাবে গোমাতাকে সংরক্ষণের জন্য সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছেন তাকে আমরা সর্বান্তকরণে সমর্থন করছি এবং বুকের শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি । কারণ আমরা বিশ্বাস করি দেশে চিরস্থায়ী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে চাইলে দেশে অবিলম্বে গোহত্যা বন্ধ করে গোসম্পদকে জাতীয় প্রাণীর সম্মান দেওয়া উচিৎ এবং গো হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিৎ । আমরা বিস্মিত সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলছে গরু কুরবানি করতে দিতেই হবে কারণ এটা তাদের ধর্মীয় অধিকার । কিন্তু আসলে কোরআন বা হাদিসে কথাও গোহত্যার কথা বলা নেই । হিন্দুদের দেবাদিদেব মহাদেব বা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাথে গোমাতা পূজিত হন বলেই একটি অংশের মৌলবাদী মুসলমানরা হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার উদ্যেশ্যে গোহত্যা করে । গোমাংস খাওয়ার সাথে শুয়োরের মাংসের তুলনা কখনোই করা যায়না কারণ হিন্দুরা গোমাংস খায়না গরুকে মায়ের মত শ্রদ্ধা করে বলে । কিন্তু শুয়োরকে মুসলমানরা ঘৃণা করে বলে খায়না । ভারতে গোহত্যা করা বা গোমাংস খাওয়া মানে সরাসরি আমাদের সনাতনীদের ধর্মীয় আবেগকে চ্যালেঞ্জ করা । আমরা বলব হুমায়ুন কবীর প্রয়োজনে বাবার নাম এফিডেফিট করে বাবর রাখুক এবং তারপর ভারত ছেড়ে বাবরের দেশে চলে যাক । প্রয়োজনে আমরা তাকে ভিসা পাসপোর্ট করিয়ে দেব । হুমায়ুনের মত গদ্দারদের জন্যই দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় । অথচ আমরা খুশি নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা সফিক কাসমি সাহেব গোহত্যা বন্ধের আন্দোলনে সার্বিকভাবে হিন্দু মহাসভার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন । আমরা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে পথসভা করে মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষদের কাছে আবেদন করব গোহত্যা করা থেকে এবং গোমাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে । এতেই সবার মঙ্গল হবে এবং দেশে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকবে । আজ মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল ও নাখোদা মসজিদের ইমামকে ডেপুটেশন দেওয়ার কর্মসূচিতে রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী ছাড়াও অনামিকা মন্ডল, অন্তরা মিত্র, প্রিয়ব্রত ভট্টাচার্য্য, পরিমল মজুমদার, মিন্টু ঘোষ, শৈলেন্দ্র সিংহ সহ একাধিক রাজ্য নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন ।

নদীতে স্নান করতে নেমে নিখোঁজ দুই নাবালক, চাঞ্চল্য পুরাতন মালদায়

পুরাতন মালদা:- মহানন্দা নদীতে স্নান করতে নেমে হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে গেল দুই নাবালক। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে পুরাতন মালদা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁসহাট এলাকায়। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে একজন অর্পণ সরকার (১০)। তার বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমন্ডি এলাকায়। সে পুরাতন মালদার বাগানপাড়ার বাসিন্দা তার মামা মহাদেব হালদারের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। অপর নাবালকের নাম বাসুদেব হালদার (৮), তার বাড়ি সংশ্লিষ্ট এলাকাতেই। এদিন দুপুরে কয়েকজন সঙ্গীর সঙ্গে নদীতে স্নান করতে নামে তারা। আচমকাই নদীর জলে তলিয়ে যায় দুই নাবালক। সঙ্গে থাকা অন্যরা চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে উদ্ধারকাজে নামেন।ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ দুই নাবালকের খোঁজে জোর তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।এই ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, আর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ।

মালদা আইটিআই কলেজে প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল অ্যাপ্রেন্টিসশিপ মেলা - দক্ষ যুবক-যুবতিদের কর্মসংস্থানে এক নতুন দিশা

মালদা আইটিআই কলেজে প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল অ্যাপ্রেন্টিসশিপ মেলা - দক্ষ যুবক-যুবতিদের কর্মসংস্থানে এক নতুন দিশা মঙ্গলবার মালদা আইটিআই কলেজে এবং মালদা জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল অ্যাপ্রেন্টিসশিপ মেলা। মঙ্গলবার প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়, যা উপস্থিত অতিথিদের মাধ্যমে এক শুভ সূচনা পায়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালদা আইটিআই কলেজের প্রিন্সিপাল সৌরভ পাল, হবিবপুর আইটিআই কলেজের প্রিন্সিপাল কৌস্তুভ ভট্টাচার্য, আই এম সি এর চেয়ারম্যান সুভাষ হালদার, জিএম ডি আইসি মানবেন্দ্র মন্ডল,সাব ডিভিশন এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ অফিসার উন্মেষ মিত্র,আই এম সি মেম্বার অজয় খান,জেলা হেড এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ অফিসার নিরেট দাস,সহ আরও অনেকে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল অ্যাপ্রেন্টিস শিপ মেলাই বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের নিয়োগ সংক্রান্ত বুথ স্থাপন করে। কারিগরি–প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত তরুণ-তরুণীদের জন্য এই প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল অ্যাপ্রেন্টিস শিপ মেলা হয়ে ওঠে এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের প্ল্যাটফর্ম। শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি ও প্রশিক্ষণমূলক সুযোগ তৈরিতে এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। কতৃপক্ষের মতে, প্রযুক্তিগত শিক্ষায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুব সমাজকে কর্মক্ষেত্রে যুক্ত করতে এই ধরনের প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল অ্যাপ্রেন্টসশিপ মেলা ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে।

মালদা বিধানসভায় বিজেপির জয় উৎসব, মুচিয়ায় বিজয় মিছিলে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের

মালদা বিধানসভায় বিজেপির জয় উৎসব, মুচিয়ায় বিজয় মিছিলে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের শনিবার বিকালে পুরাতন মালদার মুচিয়া এলাকায় মালদা বিধানসভার বিজেপির উদ্যোগে এক বিশাল বিজয় মিছিলের আয়োজন করা হয়।শনিবার বিকালে মহামায়া মন্দির থেকে আইহো পর্যন্ত এই বিজয় মিছিলকে ঘিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয় গোটা মুচিয়া এলাকাজুড়ে। মিছিলে পা মেলান মালদা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনরায় নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক গোপালচন্দ্র সাহা। তাছাড়াও এই মিছিলে পা মেলান পুরাতন মালদা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রুম্পা রাজবংশী, মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান পলিদাস সহ অন্যান্য বিজেপির কর্মকর্তারা।এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়লাভ করেছেন মালদা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক গোপাল চন্দ্র সাহা । সেই জয়ের আনন্দে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। হাতে দলীয় পতাকা, আবির খেলায় এবং স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা মিছিল। মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সমস্ত এলাকা থেকে বিজেপি সমর্থকেরা এই বিজয় মিছিলে যোগ দেন। বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে মুচিয়া এলাকা ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, মানুষের সমর্থন ও উন্নয়নের উপর ভর করেই এই বিপুল জয় এসেছে। এদিনের মিছিলে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো।

মালদা জেলা পুলিশের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার ২

বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে বড় সাফল্য পেল মালদা জেলা পুলিশ।মালদহে পুলিশি অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার। বৃহস্পতিবার রাত্রে পুলিশি অভিযান চালিয়ে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ঘটনায় মোট দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মালদা পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে কালিয়াচক থানার পুলিশ শাহবাজপুর থেকে সারদা এলাকায় যাওয়ার পথে একটি মোটরবাইক থামিয়ে তল্লাশি চালায়। মোটরবাইকে থাকা একটি ব্যাগে থেকে উদ্ধার হয় চারটি আগ্নেয়াস্ত্র। মোটরবাইকে থাকা দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। বিহার থেকে ওই আগ্নেয়াস্ত্র আনা হয়েছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে ধৃতদের নাম মঙ্গল মণ্ডল এবং সুজন মন্ডল । ইংরেজবাজারের গৌড় এলাকার বাসিন্দা মঙ্গল মন্ডল। সুজন মন্ডলের বাড়ি কালিয়াচক উমাকান্তটোলা এলাকায়। বিক্রির উদ্দেশ্যে নাকি অপরাধ সংগঠিত করার জন্য ওই আগ্নেয়াস্ত্র আনা হয়েছিল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতে তুলেছে পুলিশ।

ধান নিয়ে নদী পার হতে গিয়ে বিপত্তি, টাঙ্গনে তলিয়ে নৌকা — নিখোঁজ দুই যুবক শ্রমিক

বুধবার সন্ধার মুচিয়া অঞ্চলের ডাহুক ঘাটে টাঙ্গন নদীতে ধান বোঝাই নৌকা ডুবে দুই ধান কাটার শ্রমিক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য শোকের ছায়া। বুধবার সন্ধ্যায় জমির মালিকের ধান নৌকায় করে নদীর ওপারে নিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই নৌকাটি নদীতে তলিয়ে যায়। ঘটনায় চারজন শ্রমিক নদীতে পড়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন দুই যুবক শ্রমিক। নিখোঁজ শ্রমিকদের নাম জাহাঙ্গীর মিয়া (২৪) ও জাকির মিয়া (২৩)। দুজনেরই বাড়ি কালিয়াচকের গোলাপগঞ্জ এলাকার চোরি অনন্তপুর গ্রামে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ দিন আগে ১৩ জনের একটি দল মুচিয়া এলাকায় ধান কাটার কাজে এসেছিলেন। কাজের ফাঁকে ধান নদীর ওপারে নিয়ে যাওয়ার সময় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঘটনাস্থলে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও মালদা থানার পুলিশ পৌঁছে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। ডুবুরি নামিয়ে নদীতে দীর্ঘক্ষণ অনুসন্ধান চালানো হলেও খবর লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ দুই শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম আদ্রিত পাল, একনজরে প্রথম দশের মেধাতালিকা

প্রকাশিত ২০২৬-এর উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল। প্রথমস্থানে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র আদ্রিত পাল। প্রথম ১০- রয়েছে মোট ৬৪ জন পডুয়া। একনজরে দেখে নিন মেধাতালিকা। দ্বিতীয় (প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৫) জিষ্ণু কুণ্ডু, রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ, পুরুলিয়া ঋতব্রত নাথ, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন, সোনারপুর ঐতিহ্য পাঁচাল, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ, নরেন্দ্রপুর তৃতীয় (প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৪) দেবপ্রিয় মাঝি, রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ (পুরুলিয়া), পাড়া তন্ময় মণ্ডল, রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ (পুরুলিয়া), পুরুলিয়া সৌম্য রায়, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন, বর্ধমান শুভায়ন মণ্ডল, সিউড়ি পাবলিক অ্যান্ড চন্দ্রবতী মুস্তাফি মেমোরিয়াল হাই স্কুল, বীরভূম প্রীতম বল্লভ, রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ (পুরুলিয়া), আরামবাগ চতুর্থ (প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৩) অরিত্র চক্রবর্তী, বড়দঙ্গল আর এন ইনস্টিটিউশন, হুগলি গোলাম ফয়জাল, কলকাতা মাদ্রাসা এপি ডিপার্টমেন্ট, কলকাতা অর্কদ্যুতি ধর, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা চন্দ্রচূড় সেন, কোচবিহার রামঘোলা হাই স্কুল, কোচবিহার পঞ্চম (প্রাপ্ত নম্বর ৪৯২) মেঘা মজুমদার, শ্রীরামপুর রমেশচন্দ্র গার্লস হাই স্কুল, হুগলি ত্রিদেব চক্রবর্তী, রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ (পুরুলিয়া), পশ্চিম মেদিনীপুর সৃজন পরিছা, রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ (পুরুলিয়া) প্রিয়াংশু মুখোপাধ্যায়, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন, নদিয়া স্বর্ণাভ খাটুয়া, তমলুক হাই স্কুল, পূর্ব মেদিনীপুর আলেখ্য মাইতি, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন, পূর্ব মেদিনীপুর সৌমিক দত্ত, রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ (পুরুলিয়া), নিমতা

কালিয়াচক চৌরঙ্গীর যানজট, জঞ্জাল ও অব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বৈঠক উদ্যোগে বিজেপি নেতা অভিজিৎ রজক, উপস্থিত বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা

মালদার কালিয়াচক চৌরঙ্গী দীর্ঘদিন ধরেই যানজট, অবৈধ দখল, নোংরা আবর্জনা এবং অপরিকল্পিত পরিবহন ব্যবস্থার সমস্যায় জর্জরিত। উত্তরবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল ব্যবসায়িক এলাকা হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন সাধারণ মানুষকে নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে বুধবার কালিয়াচক থানায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকের আয়োজন করেন বিজেপি নেতা Abhijit Rajak। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনএইচআই-এর আধিকারিক, আরটিও দফতরের প্রতিনিধি, ট্রাফিক পুলিশের আধিকারিক, টোটো ইউনিয়নের সদস্য, ব্লক প্রশাসনের আধিকারিক সহ বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিরা। মূলত কালিয়াচক চৌরঙ্গী ও জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকার যানজট, ফুটপাত দখল, আবর্জনা সমস্যা, ড্রেন পরিষ্কার এবং সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্দেশ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিজেপি নেতা অভিজিৎ রজক জানান, “দীর্ঘদিন ধরেই কালিয়াচকের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে যানজট। বিশেষ করে জাতীয় সড়কে টোটোর অবাধ চলাচল এবং অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে প্রতিদিন সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে জাতীয় সড়কে টোটো চলাচল করতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সেই নির্দেশ অনেক ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না। ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কালিয়াচক চৌরঙ্গীতে তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “শুধু যানজট নয়, কালিয়াচকের আরেকটি বড় সমস্যা হল নোংরা আবর্জনা। জাতীয় সড়কের গার্ডওয়ালের পাশে প্রতিদিন আবর্জনার স্তূপ জমছে। এতে যেমন পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, তেমনই দুর্গন্ধে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। বাজার এলাকায় পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকা এবং নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবেও সমস্যা বাড়ছে।” অভিজিৎ রজকের বক্তব্য অনুযায়ী, কালিয়াচক চৌরঙ্গীর চারপাশের ড্রেনগুলির অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। বহু জায়গায় ড্রেন আবর্জনায় ভরে গিয়ে জলনিকাশির পথ বন্ধ হয়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই নোংরা জল রাস্তায় উঠে আসছে। এতে পথচারী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অনেক দোকানের সামনেও নোংরা জল জমে থাকছে, যার ফলে ব্যবসায়িক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের সামনে এই সমস্ত সমস্যার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুব দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। টোটো ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও দীর্ঘ আলোচনা হয় বৈঠকে। টোটো চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট রুট ও স্ট্যান্ড তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকেও কিছু বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যানজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে অতিরিক্ত ট্রাফিক কর্মী মোতায়েনের কথাও উঠে আসে। এছাড়াও কালিয়াচকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক এলাকায় পর্যাপ্ত সুলভ শৌচালয় না থাকায় সাধারণ মানুষ বিশেষ সমস্যার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ ওঠে। বাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত হলেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেটের অভাব রয়েছে। এই বিষয়েও প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, কালিয়াচক চৌরঙ্গী এলাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে। রাস্তার পাশে জমে থাকা আবর্জনা সরানো, ড্রেন পরিষ্কার, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে একযোগে কাজ করবে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিজিৎ রজক বলেন, “কালিয়াচক উত্তরবঙ্গের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্র। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত হয়। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যদি এই ধরনের অব্যবস্থা চলতে থাকে, তাহলে এলাকার ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। আমরা চাই প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ একসঙ্গে এগিয়ে এসে কালিয়াচককে একটি পরিষ্কার, সুন্দর এবং যানজটমুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তুলুক।” তিনি আরও জানান, “আজকের বৈঠক শুধুমাত্র আলোচনা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে না। কাল থেকেই বিভিন্ন কাজ শুরু হয়ে যাবে। প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর ইতিমধ্যেই কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আমরা আশা করছি খুব দ্রুত সাধারণ মানুষ এর সুফল পাবেন।” স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের একাংশ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে কালিয়াচকের সমস্যাগুলি নিয়ে কেউ কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। এবার প্রশাসন এবং বিভিন্ন দফতর একসঙ্গে বসে আলোচনা করায় সমস্যার সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর আশা, শুধুমাত্র বৈঠকেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কারণ কালিয়াচকের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানজট, নোংরা আবর্জনা এবং অবৈধ দখলের সমস্যা শুধু সাধারণ মানুষের ভোগান্তিই বাড়াচ্ছে না, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এলাকার সামগ্রিক পরিবেশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

কৃতি ছাত্রছাত্রীদের বাড়িতে বিধায়ক নজরুল ইসলাম, সাফল্যে গর্বিত মোথাবাড়ি

এম নাজমুস সাহাদাত, মালদহ: মাধ্যমিক ও হাই মাদ্রাসা পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করা দুই কৃতি ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানালেন মোথাবাড়ি বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়ক নজরুল ইসলাম। সোমবার কালিয়াচক-২ ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তিনি ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এদিন তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হাসিমুদ্দিন আহমেদ, ফারুক আব্দুল্লাহ সহ অন্যান্যরা। এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৬৭৩ নম্বর পেয়ে কালিয়াচক-২ ব্লকে প্রথম স্থান অধিকার করেছে ত্রেয়শী সরকার। সে মোথাবাড়ি হাই স্কুলের ছাত্রী। তার বাড়ি মেহেরাপুর ঠাকুরপাড়া গ্রামে। বাবা নির্মল চন্দ্র সরকার ও মা অর্চনা মন্ডলের মেয়ে ত্রেয়শী ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। ত্রেয়শী জানায়, ভবিষ্যতে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে উচ্চমাধ্যমিকে পড়াশোনা করে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে তার। মানুষের সেবা করার লক্ষ্য নিয়েই সে এগিয়ে যেতে চায়। অন্যদিকে, হাই মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষায় ৭৬৩ নম্বর পেয়ে এলাকায় নজর কেড়েছে বাবলা মন্ডলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাহাবুবা খাতুন। আইডিয়াল হাই মাদ্রাসার এই ছাত্রী অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জন করেছে। তার বাবা দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। মাহাবুবা জানায়, সেও আগামী দিনে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করে চিকিৎসক হতে চায়। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজসেবামূলক কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার। পরিবারের বড় বোন বর্তমানে শিলিগুড়ির নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বিএসসি নার্সিং নিয়ে পড়াশোনা করছেন। এদিন দুই কৃতি ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে ফুলের তোড়া ও মিষ্টিমুখ করিয়ে শুভেচ্ছা জানান বিধায়ক নজরুল ইসলাম। ছাত্রছাত্রীদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি। বিধায়ক নজরুল ইসলাম বলেন, “গ্রামের সাধারণ ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবার থেকে উঠে এসে এই ধরনের সাফল্য অর্জন সত্যিই গর্বের বিষয়। এই ছাত্রছাত্রীরাই আগামী দিনের সমাজের সম্পদ। ওদের এগিয়ে যাওয়ার পথে কোনো বাধা এলে আমরা সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করব।” তিনি আরও বলেন, “শিক্ষাই সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি। আর্থিক অসুবিধার কারণে যেন কোনো মেধাবী ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সেই বিষয়ে আমরা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।” বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বক্তব্য, ত্রেয়শী ও মাহাবুবা দুজনেই অত্যন্ত পরিশ্রমী, ভদ্র ও মেধাবী ছাত্রী। নিয়মিত অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাসের জোরেই তারা এই সাফল্য অর্জন করেছে। দুই ছাত্রীর এই কৃতিত্বে গর্বিত গোটা মোথাবাড়ি এলাকা। তাঁদের সাফল্য আগামী প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের কাছেও এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

দারিদ্র্যকে হার মানিয়ে নজির গড়ল সুজাপুরের দুই কৃতি পড়ুয়া

কালিয়াচক :- দারিদ্র্যকে হার মানিয়ে নজির সুজাপুরের কৃতি ছাত্রছাত্রীরা। হাই মাদ্রাসা বোর্ডে প্রথম সাহান আখতার ও চতুর্থ আফ্রিদা খাতুনকে লিমরা ফাউন্ডেশনের সংবর্ধনা মেধা আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে দারিদ্র্য কোনও বাধা হতে পারে না সেই বার্তাই ফের সামনে এনে দিল মালদহের সুজাপুরের নয় মৌজা সুবহানিয়া হাই মাদ্রাসার দুই কৃতি ছাত্রছাত্রী। হাই মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী সাহান আখতার এবং চতুর্থ স্থান অধিকারী আফ্রিদা খাতুনকে সংবর্ধনা জানাল লিমরা ফাউন্ডেশন। তাদের প্রাপ্ত নম্বর যথাক্রমে ৭৮১ ও ৭৭৭ কৃতীদের সংবর্ধনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন লিমরা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি দল। শিক্ষক নাফিস আলী, প্রধান শিক্ষক সারিফ ইকবাল, শিক্ষক সোহেল আলম, শিক্ষা প্রেমী খাইরুল সেখ, সাংবাদিক আবুল কাশিম ও সমাজকর্মী নাসিমুল হক নাসিম প্রমুখ। এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকেরা। কৃতি ছাত্রছাত্রীদের হাতে ফুলের তোড়া, ডায়েরি, কলম, স্মারক ও সম্মানপত্র তুলে দিয়ে তাঁদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের শুভেচ্ছা জানানো হয়। জানা গিয়েছে সাহান আখতার ও আফ্রিদা খাতুন দুজনেই অত্যন্ত সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছে। সংসারে আর্থিক অভাব থাকলেও পড়াশোনার প্রতি তাঁদের আগ্রহ ও অধ্যবসায় কখনও কমেনি। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তাঁরা রাজ্যস্তরে সাফল্য অর্জন করে এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সদস্যরা বলেন, বর্তমান সমাজে এই ধরনের সাফল্য অন্য ছাত্রছাত্রীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। অর্থনৈতিক কষ্টকে পিছনে ফেলে যেভাবে সাহান ও আফ্রিদা নিজেদের মেধার পরিচয় দিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আরও বলেন, লিমরা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রতি বছর কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা জানানো হয়। কেরিয়ার কাউন্সিলিং এর পাশাপাশি সফল ছাত্র-ছাত্রীদের স্কলারশিপ দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন এলাকার মেধাবী ও দুঃস্থ ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠন। পড়াশোনার পাশাপাশি যেনো অন্যান্য ক্ষেত্রেও যাতে তারা আরও এগিয়ে যেতে পারে, সে ব্যাপারেও পাশে থাকবে লিমরা ফাউন্ডেশন। প্রথম স্থান অধিকারী সাহান আখতার নিজের সাফল্যের কৃতিত্ব বাবা-মা ও শিক্ষকদের দিয়েছে। তিনি জানান, তার স্কুলের পাশাপাশি ফোর আর প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি অনেক সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছেন। তিনি আরও জানান যে, ভবিষ্যতে আরও বড় লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। অন্যদিকে আফ্রিদা খাতুনও জানিয়েছে, কঠোর পরিশ্রমই তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। প্রতিবেশীদের কথায়, সুজাপুরের এই দুই কৃতি পড়ুয়ার সাফল্য গোটা জেলার গর্ব। তাঁদের এই অর্জন আগামী দিনে আরও অনেক ছাত্রছাত্রীকে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাবে।



Ads






অনুসন্ধান







Follow us on                  

About Us
Kaliachak Sangbad, a pioneering digital platform, is revolutionizing the way citizens access news, information, and services.
Contact Us
Address : Kaliachak, Malda
Call : +91 7001942597
WhatsApp : +91 9749218411
Email : kaliachaksangbad@gmail.com

Total Visitor : 139156